বিরোধীদল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়- প্রধানমন্ত্রী

১৩ জুন, ২০২৬ - দুপুর ২:৪৩
বিরোধীদল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়- প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি ও মানুষকে বিভ্রান্ত করাই বর্তমান বিরোধীদলের উদ্দেশ্য

দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি ও মানুষকে বিভ্রান্ত করাই বর্তমান বিরোধীদলের উদ্দেশ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাজেটের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দিতে চায় বর্তমান সরকার, কিন্তু বিরোধীদল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়।

কক্সবাজারে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে শনিবার (১৩ জুন) সকালে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং অনেক পণ্যকে ভ্যাটমুক্ত রাখা হয়েছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘বিরোধীদল বলছে, গণবিরোধী এই বাজেট তারা মানে না। যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয় সেই বাজেট ও বিরোধীদল মানে না, যেই বাজেটে মদ ও সিগারেটের দাম বাড়নো হয়, তাও তারা মানে না। তাদের উদ্দেশ্য দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’

তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার খাল পুনঃখনন করছে। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন হবে। প্রায় ১২ শ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা মিলবে। ১২ শ মেট্রিকটন খাদ্য উৎপাদন হবে।

বিএনপির রাজনীতি দেশ ও জনগণের জন্য এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা মেয়েদের জন্য শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করে দিয়েছি। পাশাপাশি অসচ্ছল নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করেছি।’

তিনি আরো বলেন, সরকারের সকল উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ঢাকা থেকে বিমানযোগে দুই যুগ পর কক্সবাজারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

এরপর সরকারপ্রধান তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এ উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই কক্সবাজারের পিএমখালী এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ড হাতে নিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে পাতলী খাল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে দাড়িয়ে প্রিয় নেতাকে বরণ করে শুভেচ্ছা জানান।

গ্রামীণ অর্থনীতি ও সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন জিয়াউর রহমান। পিএমখালীর এই পাতলী খালটি তারই অন্যতম সাক্ষী, ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে জিয়াউর রহমান এই খাল খননের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।

কক্সবাজারের এই স্থানীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের একটি বৃহৎ জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যার প্রথম দফায় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, শুধু খাল খননই নয়, পরিবেশ রক্ষায় খালের পাড় সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী দিনভর নানা কর্মসূচি শেষে রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে ।