নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত কেউ টাকা উত্তোলন না করায় অনুদানের অর্থ ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন।
এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা ২১ জনের নামে অনুদান মঞ্জুর করে সচিবালয়।পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই তালিকায় সংসদ সদস্যের মেয়েসহ ও আত্মীয়স্বজনের নাম থাকায় এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিতর্কের পর সংসদ সদস্য আতাউর রহমান দাবি করেছিলেন, তালিকাটি তার ব্যক্তি গত সচিব( পিএস) প্রস্তুত করেছিলেন। তিনি ওই তালিকা অনুযায়ী অনুদান বিতরণ করবেন না বলেও জানিয়েছিলেন।পরে নতুন তালিকা দিতে চাইলেও প্রশাসন জানায়, সচিবালয় থেকে অনুমোদিত তালিকার বাইরে কাউকে অনুদান দেওয়ার সুযোগ নেই।তালিকা সংশোধন করতে হলে তা সচিবালয় থেকেই করতে হবে।
নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে যানা গেছে, অনুমোদিত তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের কেউই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুদানের টাকা গ্রহণ করেনি।ফলে সরকারি আর্থিক বিধি অনুযায়ী অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির বলেন," সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে একটি বরাদ্দ পত্র এসেছিল।
ওই বরাদ্দের অর্থ উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের শেষ সময় ছিল ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত । তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুদানের অর্থ গ্রহণের জন্য কেউ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেননি।
বরাদ্দপত্রে উল্লেখ রয়েছে,৩০ জুনের মধ্যে অর্থ বিতরণ সম্ভব না হলে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠাতে হবে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ অর্থ গ্রহণ না করায় বিধি অনুযায়ী অর্থ ফেরত পাঠানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিগগিরই বরাদ্দের পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হবে"
অপর দিকে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বরাদ্দের তালিকায় থাকা উপকারভোগীরা যেহেতু এখনও পর্যন্ত টাকা নিতে আসেনি। সেহেতু নিয়ম অনুযায়ী টাকা ফেরতের কাজ চলমান রেখেছি।
এ বিষয়ে জানতে নড়াইল -২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান (বাচ্চু) জানান, ২৯ জুন তারিখে সংসদ সচিবালয় বরাবর একটি ডিও দিয়েছি ঐ তালিকার অনুকূলে বরাদ্দ বাতিলের জন্য।
প্রসঙ্গত,বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের অর্থ শাখা -২- এর অর্থ সহকারী সচিব রাখী আহমেদ সাক্ষরিত ১৮ জুনের পত্রে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে নড়াইল -২ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা নির্বাচনি এলাকার মোট ২১ জনের মধ্যে বন্টনের জন্য মঞ্জুরি অনুমোদন দেওয়া হয়৷ ওই তালিকা।
এ বিষয়ে মো.আতাউর রহমান বাচ্চু নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় ব্যাখ্যা দেন।সেখানে তিনি জানান, সময় সল্পতায় কারণে মাত্র এক দিনের মধ্যে সংসদ সচিবালয়ে অনুদান গ্রহীতাদের তালিকা জমা দিতে হয়েছিল। তিনি নির্বাচনি এলাকায় ব্যস্ত থাকায় ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত সহকারি বিষয়টি জানালে তাকে এলাকা থেকে নাম সংগ্রহ করে জমা দিতে বলেন।পরে এমপির পূর্ব সাক্ষরিত প্যাডে তালিকা প্রস্তুত করে জমা দেন ব্যক্তিগত সহকারি।সেখানে কাদের নাম রয়েছে এমপি সেটি দেখার সুযোগ পায়নি।
এ ঘটনায় গত ২৮ জুন দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে এমপির ব্যক্তিগত সহকারি ( পিএস) কে বরখাস্ত করা হয়। ওই দিন বিকাল সাড়ে চারটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পিএসকে বরখাস্তের আদেশপত্রটি প্রাকাশ করেন সংসদ সদস্য আতাউর রহমান। সংসদ সদস্যের প্যাডে তার সাক্ষরিত আদেশ পত্রে লেখা হয় " এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে,আমার ব্যক্তিগত সহকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে বরখাস্ত করা হলো।আদেশটি ২৮ /৬/২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।