নিউইয়র্কে হিজাবি নারীর জয়
গাজায় ‘ইসরাইলের গণহত্যার অর্থায়ন বন্ধ’ এবং গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট নির্বাচনের কুইন্স এলাকার ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয় পেয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত প্রার্থী অ্যাবার কাওয়াস।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এ প্রাইমারিতে জয়ী হন তিনি। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থন পাওয়ার পর তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত বাবা-মায়ের ঘরে নিউইয়র্কে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাওয়াস তার প্রচারণায় অভিবাসনব্যবস্থার সংস্কার এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তার এই জয় আসে জোহরান মামদানির ধারাবাহিক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাইমারি জয়ের পর। ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে একটি গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মামদানি এসব নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
কাওয়াসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তিনি মামদানির সঙ্গে মিলে “Not On Our Dime!” নামে একটি প্রচারণা গড়ে তোলায় ভূমিকা রেখেছেন। এ উদ্যোগের লক্ষ্য নিউইয়র্কে নিবন্ধিত বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ইসরাইলকে অর্থ প্রদান বন্ধ করা।
প্রচারণাটির ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ‘ইসরাইলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সহিংসতায়’ ভর্তুকি দিচ্ছে। তাদের স্লোগান— “ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধে নিউইয়র্কের অর্থায়ন বন্ধ করো।”
ওয়েবসাইটটিতে পশ্চিম তীর ও গাজায় ‘গণহত্যার কৌশল’ প্রয়োগের অভিযোগ তুলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘জঘন্য নৃশংসতার’ কথা বলা হয়েছে। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর নিহত ফিলিস্তিনিদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হলেও ৭ অক্টোবরের হামলার বিষয়টি সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।
এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিল নিউইয়র্কের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অলাভজনক সংস্থাগুলোকে ‘ইসরাইলি বসতি কার্যক্রমে অননুমোদিত সহায়তা প্রদান’ থেকে বিরত রাখতে হবে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নিউইয়র্কভিত্তিক বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা থেকে প্রতি বছর ইসরাইলি বসতিগুলোতে যাওয়া প্রায় ৬ কোটি ডলারের অর্থপ্রবাহ বন্ধ হবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব বসতিকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে জানিয়েছে মামদানি।
নিউইয়র্কের কোনো সিনাগগ বা ইহুদি প্রতিষ্ঠান যদি ZAKA, United Hatzalah বা One Israel Fund-কে অর্থ সহায়তা দেয়, তাহলে তাদের কমপক্ষে ১০ লাখ ডলার জরিমানা গুনতে হতে পারে। পাশাপাশি আইনি মামলার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিও থাকবে প্রস্তাবিত এই আইনে।






