নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের খোঁজে বদলে যাওয়া ব্রাজিল
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আজ রাতে মাঠে নামছে । ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর মহারণে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ নরওয়ে—যে দলটির বিপক্ষে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের সুখস্মৃতি খুব বেশি নেই।
বিশ্বকাপে আজ ব্রাজিলের বড় পরীক্ষা: ইতিহাস নরওয়ের পক্ষে, তবে ছন্দে ফিরেছে সেলেসাও।তবে বর্তমান ফর্ম, দলীয় ভারসাম্য এবং ধারাবাহিক উন্নতি বিবেচনায় সেলেসাও শিবির আত্মবিশ্বাসী।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ড খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। দুই দলের বিশ্বকাপ লড়াইয়ে ব্রাজিল এখনো জয়ের দেখা পায়নি। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নরওয়ে ২-১ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিলকে। সামগ্রিক মুখোমুখি লড়াইয়েও নরওয়ে এখনো অপরাজিত থাকায় ম্যাচটি ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে ইতিহাসের সেই পরিসংখ্যান বর্তমান ব্রাজিলকে খুব বেশি ভাবাচ্ছে না। কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলটি ম্যাচের পর ম্যাচে নিজেদের আরও পরিণত করে তুলছে। শেষ কয়েকটি ম্যাচে আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই ভারসাম্য দেখিয়েছে ব্রাজিল। শেষ চার বিশ্বকাপ ম্যাচে তারা করেছে ৯ গোল, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ২টি। বল দখল, পাসিং এবং সুযোগ তৈরির দিক থেকেও দলটি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা।
বিশেষ করে জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় জয় ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা দেখিয়েছে সেলেসাও। যা নকআউট পর্বে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে নরওয়েও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। আর্লিং হালান্ড টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যেই একাধিক গোল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ নরওয়েকে অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রতিপক্ষে পরিণত করেছে। তবে তাদের রক্ষণভাগ তুলনামূলক দুর্বল। চার ম্যাচে ১০ গোল করলেও তারা ৮ গোল হজম করেছে এবং এখনো কোনো ক্লিন শিট রাখতে পারেনি।
ব্রাজিলের জন্য বড় ভরসার নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তিনি দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারাইসের নিয়ন্ত্রণ এবং অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারদের উপস্থিতি ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখছে। যদিও লুকাস প্যাকেতা চোটের কারণে ছিটকে গেছেন এবং রাফিনিয়ার ফিটনেস নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল, তবে তাকে বদলি হিসেবে পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন কোচ আনচেলত্তি। সাথে আছেন নেইমার জুনিয়র।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কাগজে-কলমে ব্রাজিল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও নরওয়েকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ ইতিহাস নরওয়ের পক্ষে, আর বর্তমান ফর্ম বলছে—হালান্ডদের একটি সুযোগই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। অন্যদিকে ব্রাজিল যদি নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখতে পারে এবং বলের দখল বজায় রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সব মিলিয়ে আজকের ম্যাচটি শুধু দুই দলের লড়াই নয়; এটি ইতিহাস বনাম বর্তমান ফর্মের এক রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ। একদিকে নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের অপেক্ষায় থাকা ব্রাজিল, অন্যদিকে ইতিহাস ধরে রাখতে মরিয়া নরওয়ে। তাই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের দিকেই।






