নড়াইলে সরকারি কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা

২৯ জুন, ২০২৬ - রাত ৮:৫৭
 1.7k
নড়াইলে সরকারি কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা

নড়াইলে সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর, সরকারি কাজে বাঁধা ও অফিস ভাংচুরের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. জিসানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্ত জিসানুর রহমান বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক। তিনি সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের পুত্র ।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু মামলা দায়ের এর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নড়াইল সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য  কর্মকর্তা মোঃ আবু রায়হান রোববার রাতে বাদী হয়ে জিসানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও - জনকে আসামি করা মামলাটি দায়ের করেন।

নড়াইল সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য  কর্মকর্তা মোঃ আবু রায়হান বলেন,জিসানুর রহমান বেশ কিছুদিন ধরেই আমার কার্যালয়ে এসে বিভিন্ন বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করছিলেন। তিনি প্রদর্শনী বরাদ্দের দাবি করলেও এসব বরাদ্দ কমিটির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, ব্যক্তিগতভাবে আমার দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি বারবার বুঝিয়ে বলার পরও তিনি অফিসে এসে অযথা ঝামেলা করেছেন। সর্বশেষ রোববার তিনি কয়েকজন লোক নিয়ে এসে আমার অফিসে ভাঙচুর মারধর করেছেন। ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।

তবে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জিসানুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দৈনিক পাঠক প্রবাহকে বলেন, “আমি কোনো মারধর বা ভাঙচুর করিনি। বরং দীর্ঘদিন ধরে একটি কাজ করে দেওয়ার কথা বলে নড়াইল সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য  কর্মকর্তা মোঃ আবু রায়হান  আমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। কাজ না হওয়ায় আমি বারবার টাকা ফেরত চাইছিলাম। ঘটনার দিন তথ্য সংগ্রহ টাকার বিষয়ে কথা বলতে গেলে মৎস্য কর্মকর্তা আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার গালিগালাজ করেন। আমি তার আচরণ মোবাইলে রেকর্ড করতে শুরু করলে তিনি আমার হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। পরে অফিসের কয়েকজন মিলে আমাকে মারধর করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কম্পিউটার নিচে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে আমি কোনো ভাঙচুর করিনি। ঘটনার পর আমাকে মামলা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, “ঘটনার প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে প্রয়োজন হলে আমি সংবাদ সম্মেলন করবো এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার চাইবো।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৎস্য কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।