নড়াইলে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদির মৃত্যু
নড়াইল জেলা কারাগারে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি লাইচ বেগম ওরফে লাইচনার (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে নড়াইল জেলা কারাগারের জেলার সাইফুল ইসলাম পাঠক প্রবাহকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত লাইচ বেগম লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের বাহার উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন (৩০ বছর) সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন। জেলা কারাগারে তার মহিলা কয়েদি বন্দি নং ছিলো-৭১৯০/এ।
জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, গত ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের মুসা খন্দকার প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হয়। নিহতের ভাই বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানির পর গত বছরের ১৪ মে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক এলিনা আক্তার ওই মামলায় লাইচ বেগম ওরফ লাইচনা, তার দেবর আকরাম মোল্যা ও জাফর খন্দকার সহ তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত লাইচ রায় ঘোষণার পর থেকে নড়াইল জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। শরীরের নানা ধরনের জটিলতা নিয়ে গত মাসে তিনি কারাগারেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে খুলনা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ।
আরও জানা যায়, রোববার দুপুরে যাবজ্জীবন সাজা ভোগকারী নারী কয়েদি লাইচ কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আলোক কুমার বাগচী মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল জেলা কারাগারের জেলার সাইফুল ইসলাম পাঠক প্রবাহকে বলেন, কয়েদি লাইচ বেগম উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা সহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তার ঔষুধ চলছিলো। আজ দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত আমরা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাই, চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সুরতহাল, ময়নাতদন্ত সহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাইচের মরদেহ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।





