ভারতে ৪৫ দিনে ২৩টির বেশি ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ

২১ জুন, ২০২৬ - রাত ১০:১৩
 449
ভারতে ৪৫ দিনে ২৩টির বেশি ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ
ভারতে ৪৫ দিনে ২৩টির বেশি ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গত দেড় মাসে অন্তত ২৩টি মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ ও দরগাহ ভাঙা বা আংশিকভাবে অপসারণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মুসলিম মিরর’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সম্প্রতি এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, উচ্ছেদ হওয়া এই ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর বড় অংশই দেশটির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে অবস্থিত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্তদের বরাত দিয়ে বলা হয়, উচ্ছেদ হওয়া কয়েকটি মসজিদ ও দরগাহ বহু বছর ধরে ওইসব এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। কোনো আগাম সতর্কতা বা সংবেদনশীলতা না দেখিয়ে আকস্মিকভাবে এই ভাঙচুর চালানোয় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিম প্রতিনিধিদের দাবি, আইন প্রয়োগ বা উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ভাবাবেগের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা দেখানো হয়নি। তাঁরা এই অভিযানের নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহিতা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধর্মীয় বৈষম্যের এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, এই অভিযান কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে চালানো হয়নি। মূলত সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা, অনুমোদনহীন বেআইনি স্থাপনা অপসারণ এবং নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইনসম্মত।

এই ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযানের পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও সংখ্যালঘু অধিকার পর্যবেক্ষক মহল ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দেশটিতে বর্তমানে এই ইস্যু নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে; একপক্ষ যেখানে প্রশাসনের আইনগত ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে, অন্যপক্ষ সেখানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় বিষয়টি দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।