সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শৃঙ্খলা ভাঙলে শিক্ষকদের শাস্তি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট ও মন্তব্যের বিষয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সতর্ক করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।
একই সঙ্গে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে কটূক্তি, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারে জড়িত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শনাক্ত করে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রণীত ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ অনুসরণ বাধ্যতামূলক।
অধিদপ্তরের ভাষ্য, সম্প্রতি কিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দেশিকার পরিপন্থী পোস্ট ও মন্তব্য করছেন।
এসব কর্মকাণ্ডের কারণে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কটূক্তি, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, অপপ্রচার কিংবা আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া এবং সেগুলো শেয়ার করাও আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।
এ পরিস্থিতিতে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মনিটরিং কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটিগুলোকে প্রতি মাসে অন্তত একটি সভা করে শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম পর্যালোচনার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা এবং গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রতিবেদন দ্রুত অধিদপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিপিইর পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত চিঠি ইতোমধ্যে দেশের সব বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট এবং উপজেলা ও থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।