চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন হলো না নাসির উদ্দিনের

১ আগস্ট, ২০২৬ - দুপুর ১২:৩৯
 1k
চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন হলো না নাসির উদ্দিনের
নাসির উদ্দিনের কবরের ছবি

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় চাঁদা বকেয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির মরদেহ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করতে না দেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে

ঘটনাটি ঘটেছে মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের পুরাতন আজমপুর এলাকায়। মৃত ব্যক্তি মো. নাসির উদ্দিন।  গত সোমবার ভোর ৫টার দিকে মারা যান তিনি।

স্বজনদের অভিযোগ, নাসির উদ্দিন দীর্ঘদিন গোরস্থানের চাঁদা পরিশোধ না করায় প্রথমে ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে এককালীন কিংবা কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে ওই গোরস্থানে দাফনের অনুমতি দেয়নি গোরস্থানের কর্তৃপক্ষ।

মৃতের বড় মেয়ে নাসিমা খাতুন জানান, বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তিন বোন ঢাকায় থেকে কুষ্টিয়ায় রওনা দেন। পথেই জানতে পারেন, যেখানে তাদের দাদা ও পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে, সেখানে বাবাকে দাফন করতে দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, "আমরা টাকা দিতে রাজি ছিলাম, প্রয়োজনে কিস্তিতেও দিতে চেয়েছি। কিন্তু পরে জানানো হয়, টাকা দিলেও সেখানে দাফন করা হবে না। একজন মৃত মানুষকে এভাবে ফিরিয়ে দেওয়া খুবই কষ্টের। পরে অন্য গোরস্থানে দাফন করেছি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নাসির উদ্দিনের বাবা আহমদ আলী ওই গোরস্থানের সদস্য ছিলেন এবং তাকে সেখানেই দাফন করা হয়েছিল। তাই পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, নাসির উদ্দিনকেও একই স্থানে সমাহিত করা হবে।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে সদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আশরাফুল হক আশা মানবিক বিবেচনায় নিজের পারিবারিক গোরস্থানে নাসির উদ্দিনের দাফনের ব্যবস্থা করেন।

তিনি বলেন, পরিবার এককালীন টাকা পরিশোধ করতেও রাজি ছিল। পরে শুনেছেন, টাকা নিলেও দাফনের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে নাসির উদ্দিনের পরিবারকে জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় গুঞ্জন ছড়ায়, স্থানীয় এক জামায়াত নেতার প্রভাবেই গোরস্থান কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। তবে অভিযুক্ত আতিয়ার হাজী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নাসির উদ্দিন তার চাচাতো ভাই এবং তিনি নিজেই ওই গোরস্থানে দাফনের চেষ্টা করেছিলেন।

গোরস্থান কমিটির সভাপতি আবুল মাস্টার বলেন, ওই গোরস্থানে শুধু সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দাফন করা হয়। নাসির উদ্দিন সদস্য না হওয়ায় তাকে দাফনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও দাবি করেন, ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ সঠিক নয় । সদস্যরা কেউ ৫০০ টাকা, কেউ ১ হাজার টাকা, আবার কেউ ধান দিয়ে চাঁদা পরিশোধ করেন। গোরস্থানের জায়গা সীমিত। সবাইকে দাফন করতে দিলে দ্রুত জায়গা ফুরিয়ে যাবে।’

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, সাধারণ জনসাধারণের গোরস্থানে এ ধরনের নিয়ম সাধারণত থাকে না। তবে এটি যদি সম্পূর্ণ পারিবারিক গোরস্থান হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে।

তিনি জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।