ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতি মেশানো উচিত নয়, ফকল্যান্ড ইস্যুতে আর্জেন্টিনা প্রেসিডেন্ট

৩ আগস্ট, ২০২৬ - সকাল ১০:৩৫
 223
ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতি মেশানো উচিত নয়, ফকল্যান্ড ইস্যুতে আর্জেন্টিনা প্রেসিডেন্ট
আর্জেন্টিনা ফুটবল দল

আর্জেন্টিনা প্রেসিডেন্ট

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জের পতাকা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতি মেশানো উচিত নয়।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, খেলাধুলা এবং রাজনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। তার ভাষায়, “তেলের সঙ্গে যেমন জল মেশে না, তেমনি খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতিও মেশানো উচিত নয়। এটি একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, রাজনৈতিক মঞ্চ নয়।”

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মিলেই মার্কিন সংগীত কিংবদন্তি এলভিস প্রেসলির একটি ঘটনার উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এলভিস মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, কারণ তিনি নিজেকে একজন বিনোদন জগতের মানুষ হিসেবে দেখতেন।

প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, খেলোয়াড়রা আবেগের বশে অনেক কিছু করতে পারেন। তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা ব্যক্তিদের প্রতিটি বক্তব্য অত্যন্ত দায়িত্বশীল হতে হয়।

“একজন রাজনীতিকের একটি মন্তব্যও কখনও কখনও যুদ্ধ ঘোষণার মতো গুরুত্ব বহন করতে পারে। তাই আমাদের সংযত থাকতে হবে,” বলেন তিনি।

আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির অবস্থানের সঙ্গেও একমত পোষণ করেন মিলেই। তার মতে, মাঠের সাফল্যকে রাজনৈতিক দাবির সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয়।

এ সময় তিনি ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত দুই গোলের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। মিলেই বলেন, “ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক দুটি গোলও ফকল্যান্ড ফিরিয়ে আনতে পারেনি।”

প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তার সরকার কূটনৈতিকভাবে ফকল্যান্ড ইস্যুতে অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি জানান, জাতিসংঘের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যকে আলোচনার টেবিলে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আর্জেন্টিনার অবস্থানের প্রতি সমর্থন বাড়ছে।

এর আগে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনা দলের কিছু খেলোয়াড়ের “ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার” স্লোগান দেওয়ারও সমালোচনা করেছিলেন মিলেই। তখনও তিনি বলেছিলেন, খেলোয়াড়রা কূটনীতির অংশ নন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি অবিবেচক বলে মনে করেন।

সবশেষে প্রেসিডেন্ট পুনর্ব্যক্ত করেন, ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার দাবি অব্যাহত থাকবে, তবে সেই দাবি প্রতিষ্ঠার পথ হবে কেবল কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ।