২৪ বছরের অভিশাপ থেকে মুক্তি: লাস্ট মিনিট ম্যাজিকে’সামুরাইদের বধ করল ব্রাজিল!
নকআউট পর্বে প্রথমে গোল হজম করা মানেই যেন ব্রাজিলের বিদায়—গত ২৪ বছর ধরে ফুটবল বিশ্বে এটাই ছিল অলিখিত এক নিয়ম। অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে কাটল সেই বাঁধা।
সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জিতেছিল ব্রাজিল। এরপর থেকে নকআউট রাউন্ডে প্রথমে গোল খেয়ে আর কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি সেলেসাওরা। তবে জাপানের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাড়ায় ব্রাজিল। ২-১ ব্যবধানের জয় তুলে নিল ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। টিকিট কাটল পরের রাউন্ডের।
প্রথমার্ধে ধাক্কা ও আনচেলত্তির মাস্টারস্ট্রোক
ম্যাচের প্রথমার্ধে চেনা ছন্দে ছিল না ব্রাজিল। উল্টো গতিশীল ফুটবলে ব্রাজিল রক্ষণকে কাঁপিয়ে দিয়ে লিড নেয় জাপান। প্রথমার্ধের শেষে যখন বিদায়ের শঙ্কা ভর করছিল ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মনে, তখনই চোটের কারণে লুকাস পাকেতাকে তুলে নিতে বাধ্য হন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পাকেতার বদলে আনচেলত্তি মাঠে নামালেন তরুণ তুর্কি এনদ্রিককে। তবে এই পরিবর্তনটা শুধু একজন খেলোয়াড়ের ছিল না। এটি ছিল ব্রাজিলের মেজাজ এবং কৌশলের আমূল পরিবর্তন। দ্বিতীয়ার্ধে যেন ঘুম থেকে জেগে উঠল পুরো ব্রাজিল দল। আক্রমণাত্মক ফুটবলে কোণঠাসা করে ফেলল ব্লু সামুরাইদের।
কাসেমিরোর সমতা ও মার্তিনেল্লির ইনজুরি টাইম ম্যাজিক
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার বাড়ায় কার্লো আনচেলত্তির দল। খেলার ৫৩ মিনিটে জাপানের গোলমুখে প্রথম বড় সুযোগ তৈরি হয়, যেখানে কাসেমিরোর ক্লোজ-রেঞ্জ হেডার জাপানি ডিফেন্ডাররা গোললাইনের একদম ওপর থেকে ব্লক করে ক্লিয়ার করে দেন। তবে ব্রাজিলিয়ানদের বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। এর ঠিক তিন মিনিট পর, অর্থাৎ ৫৬ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের বাড়ানো এক ইঞ্চি-নিখুঁত ক্রসে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত এক ব্যাক-পোস্ট হেডার করেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। জাপানের গোলরক্ষক জায়ন সুজুকিকে পরাস্ত করে বল জড়ায় জালে, উল্লাসে ফেটে পড়ে হিউস্টন স্টেডিয়াম।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি দুর্দান্ত শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে লিড নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয় সেলেসাওদের। ম্যাচের সময় যত গড়াচ্ছিল, খেলা অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছিল।
কিন্তু নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন অতিরিক্ত ৬ মিনিটের ইনজুরি টাইমের খেলা চলছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের বয়স যখন ৯০+৬ মিনিট—মাঝমাঠ থেকে নিখুঁত এক পাস বাড়ান ব্রুনো গিমারায়েস। জাপানের বক্সের ভেতর বল পেয়েই চোখের পলকে ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। বলটি পোস্টে লেগে জালে জড়াতেই অবিশ্বাস্য এক জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের।
ভাঙল ২৪ বছরের ডেডলক
মার্তিনেল্লির এই শেষ মুহূর্তের গোলেই ভাঙল দীর্ঘ ২৪ বছরের এক মানসিক বাধা। ২০০২ সালের বিশ্বকাপের পর এই প্রথম নকআউট পর্বে প্রথমে গোল হজম করেও ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল। সেবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রিভালদো আর রোনালদিনহোর নৈপুণ্যে জয় পেয়েছিল তারা। আজ ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে কাসেমিরো আর মার্তিনেল্লির কাঁধে চড়ে ইতিহাস নতুন করে লিখল ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই রোমাঞ্চকর জয়ের মাধ্যমে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ল আনচেলত্তির শিষ্যরা।






