পরীমনি বিতর্কে শেষ পর্যন্ত চাকরি হারালেন সাবেক ডিবি কর্মকর্তা

২০ জুন, ২০২৬ - রাত ১২:৩৯
 1.1k
পরীমনি বিতর্কে শেষ পর্যন্ত চাকরি হারালেন সাবেক ডিবি কর্মকর্তা
চাকরি হারালেন সাবেক ডিবি কর্মকর্তা

বহুল আলোচিত পরীমনি-সাকলায়েন বিতর্কের প্রায় তিন বছর পর সাবেক ডিবি কর্মকর্তা মো. গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিল সরকার। 

চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনারকে (এডিসি) চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত গোলাম সাকলায়েন ডিবির গুলশান বিভাগের এডিসি থাকাকালে সরকারি দায়িত্বের বাইরে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, একসঙ্গে জন্মদিন উদযাপন এবং সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সময় কাটানোর বিষয়গুলো বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচারিত হয়। এসব ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার জেরে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে গোলাম সাকলায়েন জবাব দাখিল করেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন জানান। পরে তার শুনানি গ্রহণ করা হয়।

অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর জমা দেওয়া প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ, তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ অভিযোগকে প্রমাণিত বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তার বিরুদ্ধে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ সূচক গুরুদণ্ড আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মতামতের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে পাঠানো হলে কমিশনও একই ধরনের শাস্তির পক্ষে পরামর্শ দেয়। পরে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি চলতি বছরের ১৭ জুন এ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন।

সব প্রক্রিয়া শেষে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ৪(৩)(খ) বিধি অনুযায়ী মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা হয়েছে।

এক সময়ের আলোচিত এই ঘটনা ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হয়েছিল। দীর্ঘ প্রশাসনিক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে সেই বিতর্কিত অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল সরকারের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে।