তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত: লড়াইয়ে বিজয়ী হলেন থালাপতি

১৩ জুলাই, ২০২৬ - রাত ৮:৪০
 149
তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত: লড়াইয়ে বিজয়ী হলেন থালাপতি

ভারতের তামিলনাড়ুতে কোরবানি ঈদসহ বছরের যেকোনো দিনে গরু ও বাছুর জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার (১৩ জুলাই) দেওয়া আদেশে সর্বোচ্চ আদালত মন্তব্যে করেন, হাইকোর্টের রায়ে উল্লিখিত কয়েকটি বিষয় পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।

এর আগে, গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ু সরকার সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ লিভ পিটিশন (এসএলপি) দায়ের করে। ওই আবেদনের শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের নির্দেশের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত রাখেন।

শুনানিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের প্রচলিত আইন নির্দিষ্ট শর্ত, নির্দিষ্ট স্থান এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির গবাদি পশু জবাইয়ের অনুমতি দেয়। ফলে বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিচারিক নির্দেশ বহাল রাখা আইনগতভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের একটি সরকারি আদেশের ভিত্তিতে রাজ্যজুড়ে গো-হত্যা নিষিদ্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই সরকারি আদেশের উদ্দেশ্য ছিল দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।

রায়ে বিচারপতি স্বামীনাথন ভারতের সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, গরু, বাছুর এবং অন্যান্য দুধ উৎপাদনকারী গবাদিপশু জবাই রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া রাজ্যগুলোর দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি সংবিধান সভার বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ভারতীয় ঐতিহ্যে গরুকে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ মর্যাদার প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে আসছে।

অন্যদিকে, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বলেন, কোরবানি ঈদের মতো বড় ধর্মীয় উৎসবে শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদিত কসাইখানায় পশু জবাইয়ের শর্ত বাস্তবসম্মত নয়। তাদের মতে, উৎসবের সময় বিপুলসংখ্যক পশু জবাইয়ের প্রয়োজন মেটানোর মতো সক্ষমতা অধিকাংশ লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানার নেই।

এদিকে তামিলনাড়ু সরকার আদালতে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জানায়, রাজ্যের ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন’ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধিমালায় পশু জবাইয়ের স্থান, পদ্ধতি ও শর্ত নির্ধারণ করা হলেও সেখানে সব ধরনের গরু জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কোনো বিধান নেই।