নড়াইলে টিকটক নিয়ে দাম্পত্য কলহ: স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামীর স্বীকারোক্তি

১৬ জুন, ২০২৬ - দুপুর ১:৪০
 2.9k
নড়াইলে টিকটক নিয়ে দাম্পত্য কলহ: স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামীর স্বীকারোক্তি

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে টিকটককে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী সুমনা ফেরদৌসী (৩৬)কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী লিমন মল্লিককে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৫ জুন) রাতে নিজ এলাকা থেকে চরদিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমনকে আটক করা হয়। নিহত সুমনা ফেরদৌসী লিমনের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন স্বীকার করেছেন যে, সুমনা টিকটকে ভিডিও প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন। এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। এরই জেরে সোমবার সকালে তিনি স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর উদ্দেশ্যে মরদেহ ঘরের মধ্যে ঝুলিয়ে রেখে বাইরে চলে যান।

লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ করে লিমন বেরিয়ে যান। বিকেল ৫টার দিকে ফিরে এসে দরজা খুলে চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রথমে লিমন স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচার করার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়।

পুলিশ আরও জানায়, ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরির সময় লিমনের সঙ্গে সুমনার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০২১ সালে তারা বিয়ে করেন। এটি ছিল লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর লিমন সুমনাকে নিয়ে নিজ গ্রামের বাড়ি চরদিঘলিয়ায় বসবাস শুরু করেন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। একপর্যায়ে প্রথম স্ত্রী একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। বর্তমানে লিমন স্থানীয় বাজারে একটি চায়ের দোকান পরিচালনার পাশাপাশি কাঠকাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। নিহতের স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।