সীমাবদ্ধার মধ্যে দেশের প্রতিটি মানুষকে বাজেটের আওতায় আনা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
সীমিত সম্পদের মধ্যেও আগামী অর্থবছরের বাজেট দেশের প্রতিটি মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়েই প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, “এটি সবার বাজেট। আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই দেশের প্রত্যেক মানুষকে বাজেটের আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে।”
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় চার মাস পর ঘোষিত এ বাজেট সম্পর্কে সূচনা বক্তব্যে আমির খসরু বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট প্রণয়ন করা। গত দেড় দশকে দেশের অর্থনীতি ছিল মূলত পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর। কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীই বেশি সুবিধা পেয়েছে।
“আমরা এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। সেই চিন্তা থেকেই সীমিত সম্পদের মধ্যেও দেশের সব মানুষের জন্য এই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে।”
রাজধানীর সচিবালয় এলাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে উপস্থিত হন অর্থমন্ত্রী। তার ডান পাশে ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বাম পাশে ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “এবারের বাজেট একটি ভিন্নধর্মী বাজেট। এর প্রেক্ষাপট যেমন ভিন্ন, তেমনি এর ভাবনা ও দর্শনও ভিন্ন। গত দেড় দশকে দেশের ভেতরে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একের পর এক ঘটনা ঘটছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে।
“এই বৈশ্বিক বাস্তবতায় আমাদের চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে। সেই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সবাইকে সঙ্গে রেখে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।”
সীমিত সম্পদের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “এ কারণেই আমরা বারবার বলেছি, আমাদের প্রতিটি ব্যয় এবং প্রতিটি প্রকল্প নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। আমরা চারটি ‘ক্রাইটেরিয়া’ নির্ধারণ করেছি।
“এর মধ্যে রয়েছে ‘ভ্যালু ফর মানি’, ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’, ‘জব ক্রিয়েশন’, এবং আরেকটি নির্ধারিত মানদণ্ড। ভবিষ্যতে সব প্রকল্পই এই চারটি ‘ক্রাইটেরিয়ার’ ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। আমি বিষয়টি পরিষ্কারভাবেই বলতে চাই।”
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জন্য আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা এখানে এসেছি আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকা।”