শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে কোনো আইনি বাঁধা নেই -চিফ প্রসিকিউটর

৬ জুলাই, ২০২৬ - রাত ১২:৩৪
 112
শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে কোনো আইনি বাঁধা নেই -চিফ প্রসিকিউটর
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে কোনো আইনি বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার উচিত দেশে ফিরে নিজের বিরুদ্ধে হওয়া সাজা ও বিচারাধীন মামলাগুলোর আইনি মোকাবিলা করা।
রোববার (৫ জুলাই) চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা আপিল করতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির দায়ে শেখ হাসিনার সাজা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তার এ শাস্তি হয়নি। সাধারণত রায় ঘোষণার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে। এরই মধ্যে সেই সময় পার হয়ে গেছে। তাই এ সময়ের মধ্যে আপিল না করা হলে পরে তা করা যাবে না। তবে আমরা চাই শেখ হাসিনা দেশে এসে নিজের বিরুদ্ধে হওয়া দণ্ড চ্যালেঞ্জ করুন। তিনি আপিল করুন। কারণ দেশে আসতে তাঁর কোনো আইনগত বাধা নেই।
আপিলের সুযোগ না থাকলে তিনি কীভাবে আপিল করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এটি আপিল বিভাগের বিষয়। আগে তাঁকে দেশে আসতে দিন। তিনি আসুন। আমরাও চাই তিনি আপিল করুন। তখন আইনি প্রক্রিয়ায় কীভাবে বিষয়টি এগোবে, তা দেখা যাবে। এখন এ বিষয়ে অগ্রিম কিছু বলার সুযোগ নেই।
আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও অনেক মামলা বিচারাধীন। বেশ কয়েকটি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অপেক্ষা রয়েছে। বিশেষ করে শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও অনেক মামলায় তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতে হতে পারে। এরই মধ্যে একটি মামলায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। তাই বাংলাদেশে এসে তাঁর এসব বিচার মোকাবিলা করা উচিত।
শাপলা চত্বরের ঘটনায় জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুকেও আসামি করা হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, এ মামলার শুরু থেকেই হাসানুল হক ইনুর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। সে সময় তিনি তথ্যমন্ত্রী ছিলেন। তার নির্দেশনায় ২০১৩ সালের ৫ মে-পরবর্তী সময়ে দুটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের পাশাপাশি তাদের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি এসব ঘটনার দায়ও স্বীকার করেছিলেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে একাধিক তদন্তে স্নাইপার রাইফেল ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যাদের বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে, প্রাথমিক তদন্তে তাদের স্নাইপার রাইফেল ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে।
এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, যাত্রাবাড়ীর একটি মামলার তদন্তে দেখা গেছে, পুলিশ অস্ত্র বিতরণের সময় কাগজে বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে বরাদ্দ দেখালেও বাস্তবে সেগুলো আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হাতে দেওয়া হতো। পরে তারা পুলিশের পাশাপাশি এসব অস্ত্র ব্যবহার করত।