আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে পরীক্ষায় অনিয়ম প্রতিরোধ করতে হবে-শিক্ষামন্ত্রী

২৩ জুন, ২০২৬ - রাত ৭:৪৪
 965
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে পরীক্ষায় অনিয়ম প্রতিরোধ করতে হবে-শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, নকল এখন আর প্রচলিত পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ডিজিটাল রূপ নিয়েছে। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে পরীক্ষায় অনিয়ম প্রতিরোধ করতে হবে।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে রোববার চট্টগ্রাম কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “২০০৬ সালে আমরা ‘নকল’ শব্দটির কবর দিয়ে এসেছি। এটা নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। এখন নকল ডিজিটাল রূপ নিয়েছে। সেটাকে সেভাবেই প্রতিহত করতে হবে। তাই পরীক্ষাকেন্দ্রে অবশ্যই সিসি ক্যামেরা থাকতে হবে। যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে ডিজিটাল ভিজিল্যান্স।”

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

এছাড়া শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা, বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশে প্রায় ৩০ হাজার মামলা জটের কারণে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ২০১৭ সালের একটি আইনি জটিলতার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া আটকে আছে। আগামী ২ জুলাই আপিল বিভাগে মামলাটির রায়ের দিন নির্ধারিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইতিবাচক রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থার অবসান হবে।

মন্ত্রী বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের গুপ্ত অনুসারীরা বিভিন্ন স্তরে অবস্থান করে শিক্ষার অগ্রযাত্রায় সহযোগিতা করছে না। প্রশাসনিক দুর্বলতার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এমপিওভুক্তির দীর্ঘ ব্যাকলগ পূরণে বর্তমানে দেশে আরও ৭৭ হাজার নতুন শিক্ষক প্রয়োজন।

শিক্ষা খাতের বাজেট প্রসঙ্গে ড. মিলন বলেন, অতীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বাজেট শিক্ষা খাতের সঙ্গে যুক্ত করে প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার এবার শিক্ষাখাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বাস্তবসম্মত বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে এবং এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রশ্নফাঁস। এই চক্র ভাঙতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, “প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে আমি নিজে বিজি প্রেসে গিয়ে পাহারা দিয়েছি এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি।”

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের বিষয়ে তিনি জানান, আগামী ২০ জুলাই ফলাফল প্রকাশ করা হবে। মূল্যায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব শিক্ষা বোর্ডের উত্তরপত্র র‌্যান্ডমভাবে পুনরায় যাচাই করা হবে, যাতে নম্বর প্রদানে কোনো ধরনের অসঙ্গতি না থাকে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এসব নীতির সফল বাস্তবায়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

সভায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ মোজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী।