নদীভাঙন রোধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কাজ শুরু, এলাকাবাসীর সন্তোষ প্রকাশ
নড়াইলের কালিয়ার বড়দিয়ায় নবগঙ্গা নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নদীভাঙনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নড়াইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ সাহা। আপাতত জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। তবে সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি বড়দিয়া বাজার ও আশপাশের জনপদ রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নবগঙ্গা নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে ঐতিহ্যবাহী বড়দিয়া বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বসতভিটা ও আশপাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাজারটিতে কয়েক শ ব্যবসায়ীর জীবিকা জড়িত। ভাঙন বাজারের দিকে অগ্রসর হলে তাঁরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন এলাকাবাসী।
নড়াইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ সাহা বলেন, “নদীভাঙনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে একটি প্যাকেজের আওতায় জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। আপাতত ভাঙন প্রতিরোধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।”স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “নবগঙ্গা নদীর ভাঙন নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী বড়দিয়া বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। দ্রুত জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। এ উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। তবে বাজার ও আশপাশের এলাকা স্থায়ীভাবে রক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি।”
স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “বড়দিয়া বাজারে কয়েক শ ব্যবসায়ীর জীবিকা জড়িত। নদীভাঙন বাজারের দিকে এগিয়ে এলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। দ্রুত কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আশাবাদী। তবে শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয়, নদীভাঙন থেকে বাজার ও জনপদকে স্থায়ীভাবে রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।”
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বি এম বরকত উল্লাহ বলেন, “বড়দিয়া বাজারের সঙ্গে কয়েক শ ব্যবসায়ীর জীবিকা ও এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জড়িত। সময়মতো জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আশাবাদী। এ উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি বাজার ও নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ৩০ লাখ টাকার প্যাকেজের আওতায় জিওব্যাগ ফেলার কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে আপাতত নদীভাঙনের ঝুঁকি কমবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বড়দিয়া বাজার, বসতভিটা ও নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ চান তাঁরা।





