নড়াইলে শিশু জান্নাতুল হত্যা মামলার আসামি রবিউলের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর, দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার রবিউল সিকদার রবি (৩৫)-র দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অন্যদিকে, আসামি রবিউলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত ফাঁসির দাবিতে নড়াইল প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে আসামির ২ দিনের রিমান্ড শুরু হয়।এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ আসামি রবির বিরুদ্ধে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলে নড়াইল সদর আমলী আদালতের বিচারক মারুফ হাসান। আজ বুধবার সকালে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার একমাত্র আসামি রবিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বুধবার নড়াইল সদর থানায় আনা হয়েছে। রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।
অপরদিকে বুধবার দুপুরে নড়াইল প্রেসক্লাবের সামনে স্থানীয় এলাকাবাসী, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এই মানববন্ধনে ব্যানার ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্লেকার্ড হাতে নিয়ে বক্তারা অভিযুক্ত রবিউল সিকদারের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানান।
এ সময় বক্তারা বলেন, রামচন্দ্রপুর পাচুড়িয়াপাড়া গ্রামের মফিজুর রহমানের পাঁচ বছরের নিষ্পাপ শিশু জান্নাতুলকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে ঘরের ভেতর আটকে রেখে পাশবিক অত্যাচার ও হত্যা করা হয়েছে। এমন জঘন্য ও নারকীয় হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করার মতো নয়। অপরাধীকে পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করলেও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা যেন না ঘটে, সেদিকে কঠোর নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তারা। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি নিষ্পত্তি করে অপরাধীর ফাঁসি নিশ্চিত না করা হলে নড়াইলে আরও তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান স্থানীয় হাট থেকে মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে আসেন। জান্নাতুল সেই মিষ্টি খেতে খেতে বাড়ির পাশের রাস্তায় ঘোরাফেরা করার সময় প্রতিবেশী ফুফাতো ভাই রবিউল সিকদার তাকে ডেকে নিজ ঘরে নিয়ে যায়। ঘণ্টাখানেক পর জান্নাতুল বাড়িতে না ফেরায় খোজাখুজির একপর্যায়ে রবিউলের ঘরের মেঝেতে কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় শিশুটির নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে আসামি রাজমিস্ত্রি রবিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয় জনতা। নিহত জান্নাতি দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ঘাতক রবিউলের ফাঁসির দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে নড়াইল। বৃষ্টির তোয়াক্কা না করে এসপি অফিসের সামনে নড়াইল-মাইজপাড়া-মাগুরা সড়কে অবস্থান নেন ছাত্র-জনতা। পাশাপাশি নড়াইল-বেনাপোল-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের দত্তপাড়া এলাকায় টানা ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত রবিউলের দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেয়।
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অভিযুক্ত রবিউলের কাছে মোবাইল ফোন না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ও সক্ষমতা ব্যবহার করে তাকে দ্রুততম সময়ে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "আসামির বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হবে। রবিউলের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।" একইসঙ্গে তিনি স্থানীয় জনগণকে শান্ত ও ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





