সম্পত্তির বিরোধে বাবার লাশ দাফনে বাধা ও সন্তানদের মধ্যে মারামারি

২১ জুন, ২০২৬ - রাত ১:৪৫
 929
সম্পত্তির বিরোধে বাবার লাশ দাফনে বাধা ও সন্তানদের মধ্যে মারামারি
সম্পত্তির বিরোধে বাবার লাশ দাফনে বাধা

সম্পত্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে বাবার লাশ দাফনে বাধা ও সন্তানদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) ভোলার চরফ্যাশনের উপজেলার শশীভূষণ থানার রসুলপুর ৩নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দা জলিল পন্ডিতের মৃত্যুর পর তার লাশ দাফনের জন্য নিজ পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া হলে সন্তানরা সেখানে দাফন করতে বাধা দেন। পরে বাধ্য হয়ে পরিবারের লোকজন নিজ বাড়ির উঠানে দ্বিতীয়বার কবর খোঁড়েন। কিন্তু সেখানেও মৃতের চতুর্থ স্ত্রী ও সেই ঘরের সন্তানরা পূনরায় বাধা প্রদান করেন। 

লাশ আঙিনায় রেখে কয়েক দফা হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে তার সন্তানদের মধ্যে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত জলিল পণ্ডিত তার জীবদ্দশায় ৪টি বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তার দুই স্ত্রী ও সাতজন ছেলেমেয়ে রয়েছেন। সন্তানদের অভিযোগ, তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তারের নামে দলিল করে যান। এই সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরেই লাশ দাফনে সন্তানরা দেন।

খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়।পুলিশের সামনেই কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরে এলাকাবাসী পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে সন্তানদের বুঝিয়ে মৃত জলিল পণ্ডিতের লাশ নিজ বাড়ির আঙিনায় জানাজা শেষে তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

প্রতিবেশী আব্দুল বারেক জানান, জলিল পন্ডিতের সম্পত্তি নিয়ে তার সন্তানদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মৃত্যুর আগে জলিল পণ্ডিত বিষয়টি  মীমাংসা করতে পারেননি। তাই মৃত্যুর পরে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। পরে এলাকাবাসী সন্তানদের বুঝিয়ে মৃত জলিল পণ্ডিতের লাশ নিজ বাড়ির আঙিনায় জানাজা শেষে তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করেন।

শশিভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। মৃতের ৪টি পরিবারে ১০ জন সন্তান রয়েছে। সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে লাশ দাফনে বাধা দিলেও পরবর্তীতে স্থানীয়দের সমঝোতায় মীমাংসা করে লাশ দাফন করা হয়। পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে।

এই ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।