লক্ষীপুরে ঢাকা শিক্ষার্থীসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে মারা গেল হত্যাকারী

২৫ জুন, ২০২৬ - রাত ১১:৫৮
 1.3k
লক্ষীপুরে ঢাকা শিক্ষার্থীসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে মারা গেল হত্যাকারী

লক্ষীপুরের রায়পুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিলে তিনিও মারা যান। 

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক নারী ও তার তিন মেয়ে। ফলে এ ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জেলার রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। অন্তর মজুমদার নামে এক যুবক মা ও তার তিন মেয়ের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা ও দুই মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলেও সেখানেও তার মৃত্যু হয়।

নিহতদের বাড়ি কুমিল্লায়। তারা কয়েক বছর ধরে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। নিহতদের একজন সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বোন ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার ছাড়াও অন্য কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মধ্যেও এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল রয়েছে।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা অন্তর মজুমদারকে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পুলিশ উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সুবর্ণচরের কার্তিক মজুমদারের ছেলে বলে জানা গেছে।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) আবু তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, কী কারণে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে শাহীনুরের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। প্লাস্টিক পণ্য হকারি করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। পাঁচ সদস্যের সেই পরিবারের চারজনই এখন নিহত।

আরও জানা গেছে, কয়েক মাস আগে অন্তর মজুমদার নিহত শাহীনুরদের একই ভবনে ভাড়া থাকতেন এবং ফল বিক্রির কাজ করতেন। তার সঙ্গে শাহীনুরের পরিবারের কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিই খতিয়ে দেখছে পুলিশ