নড়াইলের দু’টা সরকারি বিদ্যালয়ের নিম্নমানের নির্মাণ কাজে ক্ষুদ্ধ এমপি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম

২২ জুলাই, ২০২৬ - রাত ৯:৪৩
 1.6k
নড়াইলের দু’টা সরকারি বিদ্যালয়ের নিম্নমানের নির্মাণ কাজে ক্ষুদ্ধ  এমপি  বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম
নড়াইলের দু’টা সরকারি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এমপি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম

নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনে পরিদর্শন করেছেন।

 এ সময় তিনি নির্মান কাজের জন্য রাখা নিম্নমানের মালামাল এবং নির্মান কাজের নিম্নমান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

জোর করে নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সরকারী কর্মকর্তাদের উপর কোন চাপ প্রয়োগ করলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করেন সংসদ সদস্য।

আজ বুধবার বিকাল ৪ টার দিকে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আসেন। এ সময় তিনি নির্মান কাজের রাখা বালু, পাথর এর নিম্নমান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি সাংবাদিক বলেন, এখানে রাখা পাথর এবং বালু অত্যন্ত নিম্নমানের। এই নিম্নমানের মালামাল দিয়ে এই ভবন নির্মান করা যাবে না। এ গুলো ব্যবহার করে কোন ভবণ নির্মান করলে সেটা আমাদের সন্তানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এই নিম্নমানের মালামাল দ্রুত অপসারণ করে ভালো মানের মালামাল দিয়ে কাজ করতে হবে। জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত এ সকল প্রকল্পের নির্ধারিত মান বজায় রেখেই কাজ করতে হবে এবং নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 

এ সময় সরকারি বালক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন যাবত কাজ না করে মাঠে মালামাল ফেলে রেখেছে । এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ব্যঘাত ঘটছে এবং একই সাথে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।

একই দিনে নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করেও সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় তিনি নির্মান কাজে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ফ্যাসিট সরকারের আমলের মত এখন নিম্নমানের মালামাল দিয়ে নির্মান কাজ করা যাবে না। এ প্রকল্পেও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্রুত এসব উপকরণ পরিবর্তন করে প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে হবে।”

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অরুনাভ রায় বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মানসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করতে চায়। আমরা চিঠির দিয়ে এই মালামাল অপসারন করে নতুন মালামাল দিয়ে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্থানীয় ভাবে ক্ষমতাশালী হওয়ায় এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। 

জানা গেছে, দুটি প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢাকার দারুস সালাম এলাকার সাউথ কল্যাণপুরের মেসার্স মিরণ এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে কাজ বাস্তবায়ন করছেন মেসার্স ইডেন এন্টারপ্রাইজ।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মেসার্স ইডেন এন্টারপ্রাইজ এর প্রতিনিধি কামরুল আলম বলেন, মালামালগুলো ব্যবহার করার আগে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্ধারিত ল্যাবে টেস্ট করা হয়। টেষ্টে উত্তীর্ণ হলেই কেবলমাত্র সেই সকল মালামাল নির্মান কাজে ব্যবহার করা হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানেরই এই নির্মান কাজ করা হয়। কোন মালামালের বিষয়ে কোন সমস্যা থাকলে নিশ্চয়ই সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

তিনি বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর অনুমতি দিলেই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মান কাজ শুরু করার জন্য আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে।